আদাবরে বিএনপি নেতা হত্যা: এক দিনে ঢাকা-ময়মনসিংহ-জামালপুরে অভিযান, গ্রেপ্তার আরও কয়েকজন
আদাবরে বিএনপি নেতা আবুল বাসার বাদশা হত্যার ঘটনায় ৩ জুলাই ঢাকা, ময়মনসিংহ ও জামালপুরে পৃথক অভিযান চালিয়ে একাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও র্যাব। উদ্ধার হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সুইচ গিয়ার চাকু। এ নিয়ে ঘটনার পর থেকে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে কয়েকজনে।

রাজধানীর আদাবরে বিএনপি নেতা আবুল বাসার বাদশা হত্যার ঘটনায় ৩ জুলাই একাধিক অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এদিন ঢাকা, ময়মনসিংহ ও জামালপুরে পৃথক অভিযান পরিচালিত হয়।
ডিবির অভিযানে চার আসামি
শুক্রবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও বিভাগ হত্যা মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে। তাঁরা হলেন রিপন (২৭), নিরব (২৫), মজনু মিয়া (৬০) ও মো. মিজানুর রহমান (৪০)। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত আনুমানিক সোয়া ৯টায় ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানাধীন সাহেবনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের অভিযানে মূল অভিযুক্ত
একই দিনে র্যাব-২ ও র্যাব-১৪-এর যৌথ দল পৃথক অভিযান চালায়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত মো. সুমন (২৫) জামালপুর সদর থানা এলাকায় এবং তাঁর সহযোগী মো. শহীদ ময়মনসিংহের নান্দাইল থানা এলাকায় অবস্থান করছেন। পরে জামালপুর সদরের কাজীর আখ এলাকা থেকে সুমনকে এবং নান্দাইলের বরাইল এলাকা থেকে শহীদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সব মিলিয়ে ঘটনার পর থেকে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে কয়েকজনে। এর আগে ২ জুলাই আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকা থেকে শোয়েব, আরমান ও নয়ন নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
মামলা ও পটভূমি
নিহত আবুল বাসারের স্ত্রী স্মৃতি আক্তার বাদী হয়ে আদাবর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্রাজিলের একটি ম্যাচের জয় উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ মেটাতে ১ জুলাই রাতে নবোদয় বাজার এলাকায় সালিসি বৈঠক বসেছিল। সেই সালিস শেষ হতেই দুই পক্ষের সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারান নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির নেতা আবুল বাসার বাদশা; আহত হন একই কমিটির আরেক নেতা সাদ্দাম হোসেন।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো, বাংলা ট্রিবিউন, নয়া দিগন্ত, দেশ রূপান্তর, একখন টিভি, ডিএমপি নিউজ (৩–৪ জুলাই ২০২৬)। বিভিন্ন বাহিনীর পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তারের মোট সংখ্যা ও কে কাকে গ্রেপ্তার করেছে, সে বিষয়ে সূত্রভেদে ভিন্নতা রয়েছে; যাচাই সাপেক্ষে সংশোধনযোগ্য। গ্রেপ্তার ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তাধীন। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা নিরপরাধ বলে গণ্য।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।
