ব্রাজিলের জয় উদ্যাপন থেকে সালিস, সালিস থেকে লাশ — আদাবরে কুপিয়ে হত্যা বিএনপি নেতাকে
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ম্যাচের জয় উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে দুদিন আগে শুরু হওয়া বিরোধ মেটাতে বসেছিল সালিসি বৈঠক। সেই সালিস শেষ হতেই ধারালো অস্ত্রের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আদাবরের নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির নেতা আবুল বাসার বাদশা। আহত হন একই কমিটির আরেক নেতা সাদ্দাম হোসেন।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার (১ জুলাই) রাতে রাজধানীর আদাবর থানাধীন নবোদয় বাজার এলাকায়। আহত অবস্থায় আবুল বাসার ও সাদ্দাম হোসেনকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে রাত পৌনে ১২টার দিকে চিকিৎসকরা আবুল বাসারকে মৃত ঘোষণা করেন। সাদ্দাম হোসেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
দুদিন আগে যেভাবে শুরু বিরোধ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার সূত্রপাত দুদিন আগে, ৩০ জুন সন্ধ্যায়। ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচের জয় উদ্যাপনের সময় বাঁশি বাজানো ও ঢোল পেটানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবক রিপনের সঙ্গে নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির নেতা সাদ্দাম হোসেনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। এ ঘটনায় সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
এই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্যই ১ জুলাই রাতে নবোদয় বাজার এলাকায় সালিসি বৈঠক ডাকা হয়। কিন্তু বৈঠক শেষ হতেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় ধারালো ছুরি ও চাপাতি নিয়ে হামলা চালানো হলে নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির দুই নেতা সাদ্দাম হোসেন ও আবুল বাসার বাদশা গুরুতর আহত হন।
নিহত ও আহত যাঁরা
নিহত আবুল বাসার বাদশার বাবার নাম আব্দুল গফুর। তাঁর গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার পূর্ব দলিলাহ গ্রামে। তিনি পরিবার নিয়ে নবোদয় হাউজিংয়ের বি-ব্লকের ১ নম্বর রোডের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
আহত সাদ্দাম হোসেনের বাবার নাম আব্দুল মালেক। তাঁর বাড়ি কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থানায়। তিনি নবোদয় হাউজিংয়ের ২ নম্বর রোডের আনসার গলির একটি বাসায় বসবাস করেন।
পুলিশ যা বলছে
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর-আদাবর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা জানান, ব্রাজিলের খেলা দেখা শেষে জয় উদ্যাপন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। এক পক্ষকে মারধরের পর বিষয়টি নিয়ে সালিস বসে; সেই সালিস শেষেই দুই নেতা হামলার শিকার হন। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে তিনি জানান।
স্থানীয় কিছু বাসিন্দার দাবি, হামলায় জড়িতরা এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এরপর যা ঘটল
২ জুলাই: ঘটনার পরদিন নবোদয় হাউজিং এলাকা থেকে সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করে পুলিশ।
৩ জুলাই: হত্যা মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি); উদ্ধার হয় ঘটনায় ব্যবহৃত সুইচ গিয়ার চাকু।
৪ জুলাই: গ্রেপ্তার শোয়েব হোসেন সোয়াইব ও কবিরকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত দুজনকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন। এ ঘটনার পর বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজনে পুলিশি নজরদারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো, আজকের পত্রিকা, দেশ রূপান্তর, রূপালী বাংলাদেশ, ইত্তেফাক, এনটিভি, দৈনিক ইনকিলাব (১–৪ জুলাই ২০২৬)। নিহত নেতা ও আহত নেতার সাংগঠনিক পদবি নিয়ে সূত্রভেদে ভিন্নতা রয়েছে — কোনো সংবাদমাধ্যমে আবুল বাসারকে ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, কোনোটিতে সভাপতি উল্লেখ করা হয়েছে; যাচাই সাপেক্ষে সংশোধনযোগ্য। গ্রেপ্তার ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তাধীন। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা নিরপরাধ বলে গণ্য।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।
